19 October 2026
27°C Kolkata

Weather

27°C
clear sky
Feels like
28.6°C
Humidity
68%
Wind
10.4 km/h N
Pressure
1013 hPa
Rainfall (last 1h)
0 mm
Cloud cover
9%
Visibility
10 km
Sunrise
05:34
Sunset
17:08

Updated: 19 Oct, 22:55 IST

🚨
Bengal’s news, in the world’s eye
Breaking
৪২১ বছরের ঐতিহ্য! লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়িতে দশভুজা নন, চতুর্ভুজা রূপে পূজিত হন মা দুর্গা কলকাতার থিম পুজোকে টেক্কা! হাড়োয়ার রবীন সংঘ পাঠাগারে ‘দাও ফিরে সে অরণ্য’, মণ্ডপজুড়ে পাখির বাসা ও সবুজের সমারোহ কোথাও অভিনব থিম, কোথাও নজরকাড়া আলোকসজ্জা! ইছামতির বুকে রাজবাড়ির অন্দরমহল, দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির রঙে মাতল বসিরহাট সাতসকালে গৌরীপুরের কাছে ডিজেল বোঝাই ট্যাঙ্কার উল্টে বিপত্তি, রাস্তায় জ্বালানি ছড়িয়ে তীব্র যানজট চিংড়িঘাটার দুর্ঘটনার পর আসানসোলেও রাস্তার রং তোলার কাজ শুরু, নিরাপত্তায় জোর পুর দফতরের
Paschim Bardhaman

পুজোর মুখে বর্ধমানে জাল নোটের কারবার! এক লক্ষ টাকার নকল নোট-সহ গ্রেফতার দম্পতি-সহ তিন, আদালতে পেশ

By Editor - Bengal News Net 62 reads 4 min read
পুজোর মুখে বর্ধমানে জাল নোটের কারবার! এক লক্ষ টাকার নকল নোট-সহ গ্রেফতার দম্পতি-সহ তিন, আদালতে পেশ

**বর্ধমান:** দুর্গাপুজোর মুখে বর্ধমান শহরে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। এক লক্ষ টাকার জাল নোট-সহ এক দম্পতি এবং আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। সোমবার রাতে বাজেপ্রতাপপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে জাল নোট ছাড়াও একটি চারচাকা গাড়ি আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় জাল নোটের চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


## গাড়িভাড়া মেটাতে ৫০০ টাকার নোট, সন্দেহ চালকের


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ লালন, তাঁর স্ত্রী জাসমিন বিবি এবং তোতন শেখ। শেখ লালনের বাড়ি বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরের আলুডাঙা মাঠপাড়া এলাকায়। অন্যদিকে, তোতন শেখের বাড়ি একই এলাকার মালির বাগান অঞ্চলে। ধৃত তিনজনই বর্ধমান শহরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।


পুলিশের প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, বলগোনা থেকে বর্ধমান আসার জন্য এক মহিলা ও এক পুরুষ ২ হাজার টাকায় একটি মারুতি গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। বর্ধমানের দিকে আসার পথে বাজেপ্রতাপপুর এলাকায় আরও এক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলা হয়। এরপর গাড়িভাড়ার টাকা মেটানোর সময় চালককে ৫০০ টাকার চারটি নোট দেওয়া হয়।


কিন্তু নোটগুলি পরীক্ষা করতে গিয়েই সন্দেহ হয় গাড়িচালকের। তাঁর নজরে আসে, চারটি নোটেরই ক্রমিক নম্বর একই। বিষয়টি বুঝতে পেরে দেরি না করে পুলিশকে খবর দেন তিনি। চালকের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে বর্ধমান থানার পুলিশ।


## ব্যাগে মিলল ৫০০ টাকার জাল নোটের বান্ডিল


খবর পেয়ে বাজেপ্রতাপপুর এলাকায় গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। এরপর গাড়িটি আটক করে ভিতরে থাকা দুই পুরুষ ও এক মহিলাকে আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় জাল নোটভর্তি একটি ব্যাগ।


পুলিশ সূত্রে দাবি, ব্যাগের মধ্যে তিনটি বান্ডিলে ৫০০ টাকার মোট ২০০টি জাল নোট ছিল। সেই হিসাবে উদ্ধার হওয়া নোটের মোট মূল্য এক লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, ধৃত জাসমিন বিবির কাছ থেকে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধারের কথাও সামনে এসেছে। তবে উদ্ধার হওয়া নোটের মোট পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের তরফে চূড়ান্ত তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।


## ছেলের চিকিৎসার জন্য টাকা চেয়েছিলেন, দাবি ধৃত মহিলার


এই ঘটনায় ধৃত জাসমিন বিবির বক্তব্য ঘিরেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তাঁর দাবি, ছেলের মস্তিষ্কের ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে তিনি সুদে টাকা ধার চেয়েছিলেন। সেই সময় একটি চায়ের দোকানে পরিচিত এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা পান বলে দাবি করেছেন তিনি।


জাসমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে টাকাগুলি আসল। নোটগুলির সঙ্গে ব্যাঙ্কের ছাপ ও স্টিকার দেখানো হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, নোটগুলি যে জাল, তা তিনি জানতেন না। পরে পুলিশের কাছ থেকেই নোটগুলি জাল বলে জানতে পারেন।


তবে ধৃত মহিলার এই দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কে, কীভাবে তাঁর হাতে এত পরিমাণ টাকা এল এবং জাল নোটের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।


## জাল নোটের পিছনে বড় চক্র? তদন্তে পুলিশ


পুজোর আগে বাজারে কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেন বাড়ে। সেই সময়ে বর্ধমান শহরে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও বাকি, তবুও জাল নোটের উৎস জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


কোথায় তৈরি হয়েছিল নোটগুলি? কোন পথে সেগুলি বর্ধমানে পৌঁছল? ধৃত তিনজনের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না? এই নোটগুলি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না? তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে এই সমস্ত প্রশ্ন।


মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায় বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল নোটের উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


পুজোর মুখে বাজেপ্রতাপপুরে এই জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় চক্রের হদিস মেলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।


প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই: মূল বিবরণে এক জায়গায় এক লক্ষ টাকার ২০০টি নোট উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, আবার অন্য জায়গায় জাসমিন বিবির কাছ থেকে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধারের উল্লেখ রয়েছে। আদালতে পুলিশি হেফাজতের আবেদনও কোথাও ১০ দিন, কোথাও ৭ দিন বলা হয়েছে। প্রকাশের আগে এই তথ্যগুলি পুলিশের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

Related News

বিজ্ঞাপন দিন • Contact ads@bengalnewsnet.com