সেনার ভুয়ো ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল’ সেজে প্রতারণার অভিযোগ, নবগ্রামে গ্রেফতার সাগরদিঘির যুবক
**মুর্শিদাবাদ: সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার এক যুবক। নিজেকে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের পদস্থ আধিকারিক বলে পরিচয় দিতেন তিনি। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পরতেন সেনাবাহিনীর পোশাক, ব্যবহার করতেন ভুয়ো পরিচয়পত্রও। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কলকাতা আর্মি ইন্টেলিজেন্স ও নবগ্রাম থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাসিন্দা তরুণ দাসকে।**
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযুক্তের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল কলকাতা আর্মি ইন্টেলিজেন্স। সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁর বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এরপর নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে নবগ্রাম থানার পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। রবিবার রাতে সেই অভিযানেই গ্রেফতার করা হয় তরুণ দাসকে।
## গাড়িতে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ স্টিকার, উদ্ধার ওয়াকিটকি ও ভুয়ো পরিচয়পত্র
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িতে লাগানো ছিল ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ লেখা স্টিকার। পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে তিনটি ওয়াকিটকি, একাধিক মোবাইল ফোন, ভুয়ো পরিচয়পত্র, সন্দেহজনক নথিপত্র এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু সামগ্রী।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সেনাবাহিনীর আধিকারিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন অভিযুক্ত। সেই পরিচয়ের আড়ালেই সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কতজন তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কত টাকা হাতানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
## প্রতারণা চক্রে আর কারা? তদন্তে পুলিশ
এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভুয়ো পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে কার কার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় প্রতারণা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।