বৃষ্টিতে ভেস্তে যাচ্ছে সমুদ্র-ছুটি, হোটেলবন্দি দিঘার পর্যটকেরা, কবে কাটবে অপেক্ষা?
**নিজস্ব প্রতিনিধি | পূর্ব মেদিনীপুর**
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত থমকে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র পর্যটন। দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি ও তাজপুরে বেড়াতে এসে অধিকাংশ পর্যটকই এখন হোটেলবন্দি। অবিরাম বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে সৈকতে নামা তো দূরের কথা, হোটেল থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সোমবার সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সমুদ্রে না নামার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
## হোটেলবন্দি পর্যটকদের হতাশা
বর্ষার এই দুর্যোগে পর্যটকদের বহু পরিকল্পনাই ভেস্তে গিয়েছে। সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ কিংবা স্থানীয় দর্শনীয় স্থান ঘোরা—সবই আপাতত বন্ধ। দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর ও শঙ্করপুরের অধিকাংশ পর্যটক দিন কাটাচ্ছেন হোটেলের ঘরেই।
জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা ভিতরে চলে এসেছে। ফলে সৈকতে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করাও নিরাপদ নয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
## পর্যটন ব্যবসাতেও প্রভাব
বর্ষার এই প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় ছোট ব্যবসায়ী, খাবারের দোকান, বিচ-ভিত্তিক পরিষেবা এবং স্থানীয় পর্যটন নির্ভর ব্যবসাগুলির আয়ও কমেছে বলে জানা যাচ্ছে।
## কবে স্বস্তি মিলবে?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছে। বুধবার থেকে নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কমলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলির পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকেরা আবার সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়ানো এবং সমুদ্র উপভোগের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার এবং সমুদ্রে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।