শ্রাবণের সোমবারে বক্রেশ্বরে নতুন নিয়ম, গর্ভগৃহে প্রবেশ করে জল ঢালতে পারবেন না ভক্তরা
বীরভূম: শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে এক ভিন্ন চিত্রের সাক্ষী থাকলেন বীরভূমের বক্রেশ্বর শিবক্ষেত্রে আগত হাজার হাজার পুণ্যার্থী। ভক্তদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বক্রেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ, সেবায়েত এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাপহরা নদীর তীরে অবস্থিত বক্রেশ্বর শিব মন্দির সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম এই তীর্থস্থানে রয়েছে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার শ্বেত প্রবালের শিবলিঙ্গ ‘বক্রনাথ’। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ঔষধি গুণসম্পন্ন একাধিক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে, বিশেষ করে সোমবারগুলিতে, হাজার হাজার শিবভক্ত এখানে এসে বাবা বক্রেশ্বরের মাথায় জল ঢেলে পূণ্যলাভের উদ্দেশ্যে ভিড় জমান। সেই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতেই এ বছর নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে ভক্তরা আর মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে সরাসরি শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে বা পুজো করতে পারবেন না। পরিবর্তে মন্দির চত্বরে নির্দিষ্টভাবে স্থাপন করা একটি চোঙার মাধ্যমে জল অর্পণ করতে হবে। সেই চোঙা দিয়ে দেওয়া জল সরাসরি বাবা বক্রনাথের শিবলিঙ্গে পৌঁছে যাবে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভক্তদের সুবিধা এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রাবণের সোমবারগুলিতে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমনের ফলে গর্ভগৃহে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়, যা অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। নতুন ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, তেমনি অন্যদিকে ভক্তরাও নির্বিঘ্নে জল অর্পণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ শিবক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে বক্রেশ্বর শিবক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রথমবার কার্যকর হওয়ায় তা ভক্তদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
শ্রাবণের পবিত্র সোমবারে নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অধিকাংশ ভক্তই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে মন্দির কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।