মহালয়ায় হাওড়ার গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়া ভিড়, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণে শামিল সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
**হাওড়া:** মহালয়ার পুণ্যলগ্নে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে ভিড় জমালেন অসংখ্য সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। শনিবার ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটগুলিতে শুরু হয় তর্পণ পর্ব। পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় গঙ্গার জল অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুরুষ ও মহিলারা। ধর্মীয় রীতি মেনে তর্পণ করতে সকাল থেকেই ঘাটগুলিতে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এই বিশেষ দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশ্যে জলদান ও তর্পণ করার প্রথা দীর্ঘদিনের। সেই রীতি মেনেই এদিন হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে ভোর থেকে ভক্তদের সমাগম দেখা যায়। পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, শনিবার সকাল ১১টা ২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত তর্পণের বিশেষ শুভ সময়। সেই নির্দিষ্ট সময়ে ভক্তিভরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি রয়েছে। মহালয়াকে কেন্দ্র করে শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটেও তর্পণ করতে ভিড় জমান মানুষজন।
**নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি পুলিশের**
মহালয়ায় গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘাটগুলিতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। পুরুষ পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলিতে চলছে নজরদারি।
পাশাপাশি, গঙ্গার জলপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নৌকা ও বোটের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে হুগলি রিভার ট্রাফিক গার্ড এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দল। ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে তর্পণ করতে পারেন এবং কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
মহালয়ার সকালে ধর্মীয় আবেগ, পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে হাওড়ার গঙ্গার ঘাটগুলিতে ছিল ব্যস্ততা ও ভক্তির পরিবেশ।