২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
নীল ব্রালেট লুকে ভাইরাল ত্রিধা চৌধুরী, মুগ্ধ অনুরাগীরা হাওড়ায় চলন্ত বাসে তাণ্ডব, যাত্রীদের প্রতিরোধে ধরা দুষ্কৃতী রাজ্য পুলিশে ১ লক্ষ নিয়োগের ঘোষণা, রেশন ভাতা বৃদ্ধি, ভবানী ভবন থেকে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত বৃষ্টিতে ভেস্তে যাচ্ছে সমুদ্র-ছুটি, হোটেলবন্দি দিঘার পর্যটকেরা, কবে কাটবে অপেক্ষা? মেদিনীপুরে বুলডোজার অভিযান, ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙল প্রশাসন
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানের

লিখেছেন Bengal News Net ৫৮ বার পঠিত ৪ মিনিটের পড়া
হরমুজ প্রণালীতে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নতুন করে বড় মাপের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা, আর তার পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার দাবি করল ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সাত ঘণ্টার এই অভিযানে হরমুজ প্রণালীর কাছে ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ক্রমশ চাপে পড়ায় এই উত্তেজনা আরও বাড়ছে।


সংবাদ সংস্থা ও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌবাহিনীর জাহাজ ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কেন্দ্র, নৌ-সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত করা হয়েছে। মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় (গ্রিনিচ সময় বুধবার ভোর ২টো) অভিযান শেষ হয় বলে সেন্টকম জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কেশম, হেনগাম, সিরিক ও বুশেহর-সহ দক্ষিণ উপকূলের একাধিক শহর ও দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে, যেখানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। পশ্চিম ইলাম প্রদেশের দেহলোরানে একটি বোতলজাত জলের কারখানা এবং সিস্তান-বালুচিস্তানের বামপুরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনা আবাসনে আঘাতের খবর মিলেছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হতাহতের কোনও তাৎক্ষণিক নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার পাল্টা হিসেবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর, সহায়ক পরিকাঠামো ও জ্বালানি ট্যাঙ্কে এবং কুয়েতের মিনা আবদুল্লায় একটি বড় মার্কিন সামরিক রসদ কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার আশ্রয়কেন্দ্র এবং কয়েকটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবিও তারা করেছে।

তবে ইরানের এই ক্ষয়ক্ষতির দাবিগুলি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ⚠️ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাহরাইন ও জর্ডনে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত নিয়ে ইরানের দাবির কোনও স্বাধীন সমর্থন মেলেনি। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী শুধু জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ইরানি আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে।

জর্ডনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশসীমায় ঢোকা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা গুলি করে নামিয়েছে; এতে কোনও হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়নি। উল্লেখ্য, প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ফারাক রয়েছে — আল জাজিরা ও কিছু সূত্র তিনটির কথা বললেও, জর্ডনের সরকারি সংবাদ সংস্থা পেত্রা-র বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে সংখ্যাটি চার।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "আমি না বলা পর্যন্ত" ইরানে হামলা চলবে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো পরিকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বলেন, জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুগুলি "শেষের জন্য" রেখে দেবেন, তবে শেষমেশ সেগুলিতেও আঘাত করা হবে। তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে আমেরিকা সতর্ক করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর নৌ-অবরোধ ফের চালু করেছে আমেরিকা, যা গ্রিনিচ সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা মাইক হানা জানিয়েছেন, সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী এই অঞ্চলে প্রায় ২১টি মার্কিন নৌযান মোতায়েন রয়েছে।


আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র (মউ) সই হয়, যা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার পথ তৈরি করেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোই ছিল সেই সমঝোতার উদ্দেশ্য। তবে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি নতুন জাহাজ চলাচল করিডর ঘোষণার পর ইরান ওই কৌশলগত জলপথ বন্ধ করে দিলে। আইআরজিসি আগে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে শুধু তেহরান-অনুমোদিত পথ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল, যা তাদের দাবি অনুযায়ী জুনের মউ-এর একটি শর্ত। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা-র বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসি বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা "আমেরিকা ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয় এমন সব রফতানি করিডর" বন্ধ করে দিতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেত। মার্কিন অবরোধের খবরে বুধবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে; গ্রিনিচ সময় রাত ১২টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল-প্রতি ৮৬.১৯ ডলারে পৌঁছয়, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে ব্যারেল-প্রতি প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তারা ১৩ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ আটকে দিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর