মহা নবমীতে বেহালা পূর্বে ১০৮ কুমারীকে দেবীরূপে পুজো, মাতৃশক্তির আরাধনায় বিশেষ উদ্যোগ
**কলকাতা:** মহা নবমীর পুণ্যলগ্নে ১০৮ জন শিশুকন্যাকে দেবীরূপে পুজো করা হল বেহালা পূর্ব বিধানসভার জ্যোতির্ময় নগরে। দুর্গোৎসবের এই বিশেষ আয়োজনে মাতৃশক্তির আরাধনার পাশাপাশি নারীসমাজের সম্মান, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বার্তাও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম দুর্গোৎসবের আয়োজন ঘিরে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে বলে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য। মহা নবমীর দিন ১০৮ জন শিশুকন্যাকে সামনে রেখে আয়োজিত হয় কুমারী পুজো। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, কুমারী পুজোয় শিশুদের মধ্যে দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি কল্পনা করে তাঁদের আরাধনা করা হয়। এই পুজোর মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর বার্তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক শঙ্কর সিকদার বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে ভারতমাতা বলে থাকি। আর দেশের সমস্ত নারীকে মাতৃরূপে দেখি। সেই ভাবনা থেকেই আজ ১০৮ জন কুমারী শিশুকে দেবীরূপে পুজো করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই পুজোয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের পরিবারের শিশুকন্যারা অংশ নিয়েছে। সাধারণ পরিবারের কন্যাদের পাশাপাশি পতিতালয়ের পরিবারের কন্যারাও এই আয়োজনে সামিল হয়েছে। তাঁদের সকলকেই সমান মর্যাদা দিয়ে দেবীরূপে পুজো করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি নারী ও শিশুকন্যার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা এবং নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান বিধায়ক।
দুর্গাপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সেই আবহেই বেহালা পূর্বের জ্যোতির্ময় নগরে ১০৮ জন শিশুকন্যাকে দেবীরূপে পুজোর আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। নারীকে মাতৃরূপে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি শিশুকন্যার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও উঠে এসেছে এই কুমারী পুজোকে কেন্দ্র করে।
মহা নবমীর এই বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তাদের বার্তা, সমাজের প্রতিটি নারীই সম্মানের অধিকারী। তাঁদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সকলের দায়িত্ব।