১৯ অক্টোবর ২০২৬
২৭.৭°C কলকাতা

আবহাওয়া

২৭.৭°C
পরিষ্কার আকাশ
অনুভূত হচ্ছে
২৯.৬°C
আর্দ্রতা
৬৬%
বাতাস
১০.২ km/h N
বায়ুচাপ
১০১৩ hPa
বৃষ্টিপাত (গত ১ ঘণ্টা)
০ mm
মেঘে ঢাকা
৩%
দৃশ্যমানতা
১০ km
সূর্যোদয়
০৫:৩৪
সূর্যাস্ত
১৭:০৮

হালনাগাদ: ১৯ Oct, ২১:৫৮ IST

🚨
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
৪২১ বছরের ঐতিহ্য! লক্ষ্মীপুরের চৌধুরী বাড়িতে দশভুজা নন, চতুর্ভুজা রূপে পূজিত হন মা দুর্গা কলকাতার থিম পুজোকে টেক্কা! হাড়োয়ার রবীন সংঘ পাঠাগারে ‘দাও ফিরে সে অরণ্য’, মণ্ডপজুড়ে পাখির বাসা ও সবুজের সমারোহ কোথাও অভিনব থিম, কোথাও নজরকাড়া আলোকসজ্জা! ইছামতির বুকে রাজবাড়ির অন্দরমহল, দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির রঙে মাতল বসিরহাট সাতসকালে গৌরীপুরের কাছে ডিজেল বোঝাই ট্যাঙ্কার উল্টে বিপত্তি, রাস্তায় জ্বালানি ছড়িয়ে তীব্র যানজট চিংড়িঘাটার দুর্ঘটনার পর আসানসোলেও রাস্তার রং তোলার কাজ শুরু, নিরাপত্তায় জোর পুর দফতরের
হাওড়া

হাওড়ায় জেলবন্দি প্রসেনজিৎ ঘোষের রহস্যমৃত্যু! চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের, কাঠগড়ায় জেল কর্তৃপক্ষ

লিখেছেন Editor - Bengal News Net ৬৯ বার পঠিত ৪ মিনিটের পড়া
হাওড়ায় জেলবন্দি প্রসেনজিৎ ঘোষের রহস্যমৃত্যু! চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের, কাঠগড়ায় জেল কর্তৃপক্ষ

**হাওড়া:** জেলের অভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে বন্দির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ায়। মৃত বন্দির নাম প্রসেনজিৎ ঘোষ। গত আগস্ট মাস থেকে হাওড়ার লিলুয়া থানার একটি গুলি চালানোর ঘটনায় জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, জেলের ভিতরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বারবার আবেদন জানিয়েও সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পাননি প্রসেনজিৎ। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁর পরিবারকে। আদালতের নির্দেশের পর তাঁকে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, বন্দিদের চিকিৎসা পরিষেবা এবং জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্যের প্রবেশ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


## কীভাবে মৃত্যু হল প্রসেনজিতের?


পরিবারের দাবি, গত ২৩ তারিখ থেকে জেলের ভিতরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রসেনজিৎ। ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বুঝতে পেরে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর মা। কিন্তু অভিযোগ, সেই আবেদনে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য বারবার অনুরোধ করেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি পরিবারের।


পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে হাওড়া আদালতে পিটিশন দাখিল করেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশের পর গতকাল রাতে প্রসেনজিৎকে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।


পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো প্রসেনজিতের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সামনে এলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।


## জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য এল কীভাবে?


এই মৃত্যুর ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে নেশা করার কারণে মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল খতিয়ে দেখা জরুরি।


যদি নেশাদ্রব্য সেবনের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা জেলের ভিতরে কীভাবে নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য পৌঁছল? বন্দিদের কাছে এই ধরনের সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পিছনে কারও ভূমিকা ছিল কি না, নিরাপত্তার কোথাও ফাঁক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


তবে এখনও পর্যন্ত জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য প্রবেশের ঘটনা বা তার সঙ্গে কোনও ব্যক্তির যোগসাজশের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তাই তদন্তের আগে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা সম্ভব নয়।


## চিকিৎসায় গাফিলতি, নাকি অন্য কোনও কারণ?


প্রসেনজিতের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মূলত দুটি বিষয়— অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী।


পরিবারের দাবি, অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে নেশা সংক্রান্ত যে কারণের কথা জানানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি, সেটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।


কখন প্রসেনজিৎ প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, জেলের চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁকে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং কখন তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— এই সমস্ত তথ্য সামনে আসা জরুরি। পাশাপাশি, আদালতে দাখিল করা পিটিশন এবং সেই সংক্রান্ত নির্দেশও ঘটনার সময়ক্রম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


## দোষীদের শাস্তির দাবিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি


ছেলের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন প্রসেনজিতের মা। তাঁর অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই ছেলেকে হারাতে হয়েছে। এই মৃত্যুর ন্যায়বিচার পেতে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তিনি শীঘ্রই লিলুয়া থানায় ও হাওড়া আদালতে লিখিত আইনি অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।


পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জেলের ভিতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দিদের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও যথাযথ তদন্তের দাবি উঠছে।


## তদন্তের দিকেই তাকিয়ে পরিবার


জেলবন্দি অবস্থায় একজনের মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে প্রসেনজিতের মৃত্যুর পিছনে চিকিৎসায় গাফিলতি, নেশাদ্রব্য সেবন, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিকিৎসার নথি, জেলের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব।


এখন পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে। প্রসেনজিতের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে তদন্তই।


প্রকাশের আগে যাচাই করুন: ঘটনার নির্দিষ্ট তারিখ ও মাস, প্রসেনজিৎ ঘোষের মৃত্যুর সরকারি কারণ, হাসপাতালের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ এবং জেল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে নিন। অভিযোগগুলিকে আপাতত পরিবারের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

বিজ্ঞাপন দিন • Contact ads@bengalnewsnet.com