রেজিনগরে ফুটল পদ্ম! ৭৫,৮১৬ ভোটে জয়ী বিজেপির শাখারভ সরকার, দ্বিতীয় স্থানে হুমায়ুনের দল
**রেজিনগর:** সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে বড় জয় পেল বিজেপি। উপনির্বাচনে ৭৫,৮১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই জয়ের ফলে রেজিনগরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ নজর কেড়েছে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) অবস্থান। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন কবীরের দল। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস, চতুর্থ স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস, পঞ্চম স্থানে সিপিএম এবং ষষ্ঠ স্থানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল।
সকাল থেকেই গণনায় এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। রাউন্ড যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা। অবশেষে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রে বিজেপির এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
### হুমায়ুন কবীরের ছেলের দল দ্বিতীয় স্থানে
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ছিল। এই কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছিলেন। তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নির্বাচনী লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, বিজেপির শাখারভ সরকারের বিপুল ব্যবধানের জয় এই কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে বিশেষ আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে চতুর্থ স্থানে। পঞ্চম স্থানে সিপিএম এবং ষষ্ঠ স্থানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল। ফলে রেজিনগরে এবারের উপনির্বাচনের ফলাফল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে নতুন করে পর্যালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
### ১০৯ নম্বর বুথে বিজেপি প্রার্থীর ৯০৯ ভোট
রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথের ফলাফলও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,১০৯। উপনির্বাচনের দিন ভোট পড়েছিল ৯৭২টি। তার মধ্যে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার পেয়েছেন ৯০৯টি ভোট।
অন্যদিকে, ওই বুথে বিজেপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা এজেইউপি প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র একটি ভোট। প্রদত্ত ভোটের হিসাবে বিজেপি প্রায় ৯৩.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা প্রায় ৯৪ শতাংশের কাছাকাছি।
একটি বুথে এই বিপুল ভোটের ব্যবধান নির্বাচনী ফলাফলের অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে। তবে একটি বুথের ফলাফল দিয়ে গোটা কেন্দ্রের ভোটারদের মনোভাব বিচার করা যায় না। সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফল বুঝতে কেন্দ্রের সমস্ত বুথের পরিসংখ্যান বিবেচনা করা জরুরি।
### জয়ের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
রেজিনগরে বিজেপির জয়ের পর সংখ্যালঘু ভোটের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকে তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সমর্থন ছাড়া এত বড় ব্যবধানে জয় সম্ভব হত না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে আশঙ্কা ও প্রচার করা হয়েছিল, তার পরিবর্তে মানুষ বিজেপির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সেই প্রচারকে গুরুত্ব না দিয়ে বিজেপির সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এছাড়াও ১৯৭২ সালের কংগ্রেস আমলের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে সেই সময়ের মতো কোনও পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যে ভয়মুক্ত পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
### ডিটেনশন সেন্টার নিয়ে প্রচারের জবাব, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ডিটেনশন সেন্টার নিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেই আশঙ্কা ও প্রচারকে মানুষ বিশ্বাস করেননি। বাংলার মানুষ আর পুরনো রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাবিত হতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রেজিনগরের ফলাফলকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সমর্থন বিজেপির দিকে এসেছে। তবে এই বক্তব্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য; ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বিস্তারিত নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
### রেজিনগরের ফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?
রেজিনগরে ৭৫,৮১৬ ভোটের ব্যবধানে বিজেপির জয় রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির সাফল্য এবং হুমায়ুন কবীরের দলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।
তবে এই ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলগুলির সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের সমর্থনের ধারাবাহিকতার উপর।
সব মিলিয়ে, রেজিনগরে শাখারভ সরকারের বিপুল জয় এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দ্বিতীয় স্থান অধিকার এবারের উপনির্বাচনের অন্যতম বড় খবর। জয়ের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যও রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।