ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ওড়িশার গঞ্জামে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী, হেলিকপ্টারে পৌঁছে দেওয়া হল খাদ্য ও পানীয় জল
গঞ্জাম: ঘূর্ণিঝড় ‘আর্নব’-এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওড়িশার গঞ্জাম জেলার দুর্গত বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে দ্রুত জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ ত্রাণ অভিযান চালাল ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড। বাহিনীর উদ্যোগে আকাশপথে দুর্গত এলাকাগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হল খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় জল।**
জানা গিয়েছে, এই ত্রাণ অভিযানে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর ভুবনেশ্বরের এয়ার এনক্লেভ থেকে দুটি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ) মোতায়েন করা হয়। হেলিকপ্টারগুলি একাধিকবার আকাশপথে উড়ে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, সেই সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
ঘূর্ণিঝড়ের জেরে গঞ্জাম জেলার একাধিক এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। স্থলপথে ত্রাণ পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সমস্যা থাকায় আকাশপথকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় উপকূলরক্ষী বাহিনী।
এই গোটা ত্রাণ অভিযান পরিচালিত হয় ওড়িশা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে দ্রুততার সঙ্গে দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বাহিনীর কর্মীদের পেশাদার দক্ষতা, প্রস্তুতি এবং দ্রুত পদক্ষেপ বহু মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করে।
গঞ্জামে এই ত্রাণ অভিযানও তারই অন্যতম উদাহরণ। দ্রুত বাহিনী মোতায়েন, ধারাবাহিক হেলিকপ্টার পরিষেবা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফের মানবিকতার নজির গড়ল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী।