গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শ্যামল ঘোষ গ্রেপ্তার, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
**নদিয়া, ২২ জুলাই:** গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগের পরই গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন প্রধান শ্যামল ঘোষ। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া, টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি দেওয়া এবং প্রাণনাশের ভয় দেখানোর অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযোগকারী নির্মল মণ্ডল, যিনি একজন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, দাবি করেছেন যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাক্তন প্রধান শ্যামল ঘোষ তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্যামল ঘোষ নিজেই নির্মল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে ওই টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।
নির্মল মণ্ডলের অভিযোগ, পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি নিজের টাকা ফেরত চাইতে যান। তখন তাঁকে মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়াও, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শ্যামল ঘোষের ছেলে শোভন ঘোষও অভিযোগকারীর উপর চাপ সৃষ্টি করেন। থানায় অভিযোগ করতে না যাওয়ার জন্য ভয় দেখানো হয় এবং অভিযোগ করলে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ জুলাই রাতে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্মল মণ্ডল। অভিযোগের তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর ২২ জুলাই গভীর রাতে গয়েশপুর এলাকা থেকে প্রাক্তন প্রধান শ্যামল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্ত শোভন ঘোষ বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পেছনের কারণ এবং পলাতক অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
এই কারণে শ্যামল ঘোষকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে রানাঘাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গয়েশপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।