লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি? কারা এখনও পেতে পারেন সুবিধা, জানুন বিস্তারিত
রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ইতিমধ্যেই দু’দফায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, জুলাই মাসে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও বহু আবেদনকারী রয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেলেও অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পাননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে কারা ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি এক সরকারি কর্মসূচিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান, যোগ্য সকল মহিলা ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এত বৃহৎ পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার কারণে কিছু উপভোক্তার কাছে এখনও অর্থ পৌঁছায়নি। তবে নিয়ম মেনে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পাবেন বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, উপভোক্তা নির্বাচন ও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত কার্যকর করা হয়েছে। সেই কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী হলেও কিছু ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকা ও সরকারি নথির তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদনকারীদের নাম যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি নথিতে নামের অবস্থান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক যাচাইয়ের ভিত্তিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রকল্পটি মূলত মহিলাদের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় পুরুষ আবেদনকারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। পাশাপাশি সরকারি রেকর্ডে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত বা অন্যান্য কারণে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামও চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
তবে যাঁদের তথ্য সঠিক রয়েছে এবং সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করছেন, তাঁদের জন্য এখনও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য নথির তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কোনও নতুন নির্দেশিকা বা আপডেট প্রকাশ হলে তা সরকারি সূত্রের মাধ্যমে জানানো হবে। ফলে যাঁরা এখনও আর্থিক সহায়তা পাননি, তাঁদের সরকারি ঘোষণা ও তথ্যের উপর নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।