রাস্তা ডুবে গ্রামে ঢুকছে জল, ঘরছাড়া পটাশপুরের মানুষ! বাড়ছে কেলেঘাইয়ের জল, ফের বন্যার আতঙ্ক
**পূর্ব মেদিনীপুর:** টানা বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে ফের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। পটাশপুর-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই জল ঢুকে পড়েছে। নৈপুর, গোপালপুর, গোকুলপুর-সহ একাধিক এলাকায় রাস্তা ও ঘরবাড়ি জলের তলায় চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। কোথাও রাস্তা ডুবে সেই জল হু হু করে গ্রামের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। বহু বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দাদের একাংশ।
চাষের জমিও এখন জলের তলায়। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মাথায় হাত কৃষকদের। একদিকে বাড়িতে জল, অন্যদিকে চাষের জমি প্লাবিত—দুই দিকের সমস্যায় কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
### পটাশপুর-বালিচক রাজ্য সড়কে বিপজ্জনক পরিস্থিতি
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পটাশপুর-বালিচক রাজ্য সড়কে। রাস্তার উপর এক কোমরেরও বেশি জল জমে থাকায় কার্যত বিপর্যস্ত স্বাভাবিক যান চলাচল। বাধ্য হয়ে ট্রাক্টর, চারচাকা ও বাইকে করে ঝুঁকি নিয়ে জল পারাপার করছেন মানুষজন। জলস্রোতের মধ্যে এভাবে যাতায়াত করতে গিয়ে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
পটাশপুরের টেপরপাড়া এলাকাতেও একই ছবি। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় সেই জল ঢুকে পড়ছে গ্রামের ভিতরে। ক্রমশ জলস্তর বাড়তে থাকায় নিচু এলাকা ও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
### বাড়ছে কেলেঘাই নদীর জল
এরই মধ্যে হু হু করে বাড়ছে কেলেঘাই নদীর জলস্তর। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও পটাশপুরবাসীর মনে তাজা। তাই ফের নদীর জল বাড়তে দেখে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়। পুরনো সেই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন নদীপাড়ের মানুষ।
### নজরদারিতে প্রশাসন ও সেচ দফতর
পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও সেচ দফতরের তরফে নজর রাখা হচ্ছে। বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে পটাশপুরবাসীর একটাই প্রশ্ন—**কবে কাটবে জলযন্ত্রণা? কবে ফিরবে স্বাভাবিক জনজীবন?** নদীর জলস্তর আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে নদীপাড় ও নিচু এলাকার মানুষ।