হাওড়ায় বাইক চোর চক্রের পর্দাফাঁস! উদ্ধার ১৩টি চুরি যাওয়া বাইক, গ্রেপ্তার ২
**হাওড়া:** হাওড়া সিটি পুলিশের বড়সড় সাফল্য। সংঘবদ্ধ বাইক চোর চক্রের হদিস পেয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এখনও পর্যন্ত ১৩টি চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রাতে হাওড়া গ্রামীণের শ্যামপুর থানা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে বাইকগুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আজ হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসিপি (ডিডি) রাহুল মিশ্র, আইপিএস, নিজের অফিস চেম্বারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সাফল্যের কথা জানান। পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরে হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় একের পর এক বাইক চুরির ঘটনা সামনে আসছিল। এই চুরির ঘটনাগুলির পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা।
### ডোমজুড়ের বাইক চুরির অভিযোগ থেকেই তদন্তের সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে ডোমজুড় থানায় একটি বাইক চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিডি টিম। চুরির ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। এরপরই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের নাম এসকে মসিবুল ওরফে মেনু এবং মনিরুল হোসেন মোল্লা। পুলিশ সূত্রে খবর, এসকে মসিবুলের বাড়ি কুলগাছিয়ায় এবং মনিরুল হোসেন মোল্লার বাড়ি উলুবেড়িয়ায়। তাঁদের গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদে বাইক চুরির একাধিক সূত্র সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
### শ্যামপুরের গ্যারেজ থেকে উদ্ধার ১৩টি বাইক
তদন্তে ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই গতকাল রাতে হাওড়া গ্রামীণের শ্যামপুর থানা এলাকার মনিরুলের একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় মোট ১৩টি চুরি যাওয়া বাইক।
একসঙ্গে এতগুলি বাইক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বাইক চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের যোগ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বাইকগুলি কোন কোন এলাকা থেকে চুরি করা হয়েছিল, সেগুলির মালিক কারা এবং চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে ধৃতদের কীভাবে যোগ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
### ধৃতের বিরুদ্ধে আগেও বাইক চুরির মামলা
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত এসকে মসিবুল ওরফে মেনুর বিরুদ্ধে আগেও বাইক চুরির মামলা রয়েছে। তাঁর অতীত অপরাধের রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগেও তিনি বাইক চুরির কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কিংবা উদ্ধার হওয়া বাইকগুলির সঙ্গে পুরনো কোনও মামলার যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। বাইক চুরির পর সেগুলি কোথায় রাখা হত, কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হত এবং সেগুলি বিক্রির কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
### আরও বড় চক্রের সন্ধানে পুলিশ
গত কয়েক মাস ধরে হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় বাইক চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ডোমজুড়ের একটি অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৩টি বাইক উদ্ধার পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে উদ্ধার হওয়া বাইকগুলির সঙ্গে আরও কোনও চুরির ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া বাইকগুলির নথি যাচাই করে এই চক্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, হাওড়া সিটি পুলিশের অভিযানে বাইক চুরি চক্রের পর্দাফাঁসের দাবি উঠেছে। দু’জনকে গ্রেপ্তার করে ১৩টি বাইক উদ্ধার করা হলেও এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং বাইক চুরির আরও ঘটনার কিনারা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।