রাতের অন্ধকারে কুয়োয় পড়ে বিপত্তি, বনদপ্তরের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল শিয়াল
আসানসোলের রূপনারায়ণপুরে রাতের অন্ধকারে একটি গভীর কুয়োয় পড়ে বিপদে পড়েছিল একটি বন্য শিয়াল। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে বিষয়টি। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিয়ালটিকে নিরাপদে কুয়ো থেকে তুলে আনে বনকর্মীরা। পরে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে সুস্থ অবস্থায় শিয়ালটিকে কাছের জঙ্গলে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপনারায়ণপুরের দুর্গা মন্দির সংলগ্ন চ্যাটার্জি পরিবারের বাড়ির কুয়োর মধ্যে শিয়ালটিকে আটকে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে পথ ভুলে শিয়ালটি লোকালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। এরপর অসাবধানতাবশত বাড়ির গভীর কুয়োয় পড়ে যায়।
সকালে বিষয়টি দেখতে পেয়েই সময় নষ্ট না করে বনদপ্তরে খবর দেন বাড়ির সদস্যরা। খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে রূপনারায়ণপুর বনদপ্তর। আধিকারিক তমালিকা চন্দ্রের নির্দেশে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
বনকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত শিয়ালটিকে নিরাপদে কুয়ো থেকে তুলে আনেন। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও বনকর্মীদের সহযোগিতা করেন। উদ্ধারের পর শিয়ালটির প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় পরে তাকে নিকটবর্তী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন্যপ্রাণীটি নিরাপদে জঙ্গলে ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চ্যাটার্জি পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, বিপদে পড়া একটি বন্যপ্রাণীকে বাঁচাতে বনদপ্তর যেভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে, তা প্রশংসনীয়।
এই ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিল, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী বিপদে পড়লে দ্রুত বনদপ্তরকে খবর দেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
এমন আরও স্থানীয় খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেটের জন্য BengalNewsNet-এর সঙ্গে থাকুন।