নন্দীগ্রামে মমতার পুরনো চোট নিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “১০ মার্চকে পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস ঘোষণা করা হোক”
নন্দীগ্রামে মমতার পুরনো চোট নিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “১০ মার্চকে পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস ঘোষণা করা হোক”
নন্দীগ্রাম: উপনির্বাচনের আগে রবিবার নন্দীগ্রামে শেষ দিনের প্রচারে গিয়ে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, সেই সময় মমতার পায়ে গুরুতর চোট লাগার যে দাবি করা হয়েছিল, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে তার সমর্থন পাওয়া যায় না। এই প্রসঙ্গেই ১০ মার্চকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
মমতার চোট নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?
নন্দীগ্রামে প্রচারের মঞ্চ থেকে ২০২১ সালের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা নথিতে হাড় বা নরম টিস্যুতে গুরুতর আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শুভেন্দুর কথায়, গাড়ির ধাক্কায় সামান্য চোট লেগে থাকতে পারে এবং সকলের সুস্থতা কামনা করা উচিত। তবে ঘটনাটিকে যেভাবে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, তা নিয়েই তাঁর আপত্তি।
এরপরই কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মার্চের ১০ তারিখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলে কেমন হয়?”
২০২১ সালে কী ঘটেছিল?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁকে প্লাস্টার ও ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় হুইলচেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচার করতে দেখা যায়।
ঘটনাটি নিয়ে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, মমতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা সেই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
সম্প্রতি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের দুটি রেডিওলজি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পুরনো ঘটনাটি ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী, মমতার বাঁ হাঁটুতে হাড় ভাঙা বা জয়েন্ট সরে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হাঁটুর আশপাশের সফট টিস্যুতেও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। বুকের পরীক্ষাতেও হাড়ের আঘাত বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথির ব্যাখ্যা এবং সেই সময়ের চোটের প্রকৃতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়।
বিরোধীদের আরও আক্রমণ
এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী শিবিরও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে পায়ে চোটের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মমতার পায়ের ব্যান্ডেজ দ্রুত খুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক চিকিৎসা রিপোর্ট সামনে আসায় সেই সময়ের ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংখ্যালঘু ভোট নিয়েও বার্তা শুভেন্দুর
এদিন নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, কাউকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করার প্রশ্ন নেই। কেউ চাইলে রামের কথা বলতে পারেন, আবার কেউ চাইলে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, সব সম্প্রদায়ের মানুষকে মূলস্রোতে আসতে হবে।
শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামের বহু সংখ্যালঘু মানুষ এবার তাঁর প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এখন তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।
উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতার পুরনো চোট, সংখ্যালঘু ভোট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রচারের উত্তাপ আরও বেড়েছে।