মালদায় কোটি টাকার নগদ ও কাফ সিরাপ উদ্ধারকাণ্ড: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুরে যাচ্ছে মালদা পুলিশ-বিএসএফের তদন্তকারী দল
**মালদা:** মালদায় কোটি টাকার নগদ অর্থ, সোনা এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল মালদা জেলা পুলিশ। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী দু'দিনের মধ্যেই দক্ষিণ দিনাজপুরে যাচ্ছে মালদা জেলা পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে মালদা জেলার বিভিন্ন আবাসন ও ভাড়া ফ্ল্যাটে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে মালদা থানার মঙ্গলবাড়ী এলাকায় দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশের অভিযানে একটি আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে **প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৭০ টাকা নগদ** এবং **২০ গ্রাম সোনা** উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে অপর একটি গুদাম থেকে **প্রায় ৯ হাজার বোতল কাফ সিরাপ** বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় **২০ লক্ষ টাকা**।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাংলাদেশে কাফ সিরাপ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থই ওই ফ্ল্যাটে মজুত রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় মালদা থেকে ইতিমধ্যেই **তিনজনকে গ্রেপ্তার** করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র অবৈধ পাচার চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, অভিযুক্তদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য মালদা জেলা পুলিশ ও বিএসএফের একটি যৌথ তদন্তকারী দল খুব শিগগিরই দক্ষিণ দিনাজপুরে যাবে। তদন্তে আন্তঃজেলা ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, এই ঘটনার পর মালদা জেলার **ইংরেজবাজার** এবং **পুরাতন মালদা**-সহ জনবহুল এলাকায় ভাড়া বাড়ি ও আবাসনগুলির উপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আবেদন জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই তার পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় নথি এবং পটভূমি (ব্যাকগ্রাউন্ড) যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অসামাজিক ও অপরাধমূলক চক্র ভাড়া বাড়িকে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা এবং কাফ সিরাপের উৎস, পাচারচক্রের বিস্তার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।