স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ স্বামীর! গঙ্গারামপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার অভিযুক্ত
**বালুরঘাট, ৪ নভেম্বর:** সাতসকালে হাড়হিম করা ঘটনা দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের পর তাঁর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর ঘোষপাড়ার এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত গৃহবধূর কাটা মুন্ডু।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম সীমা ঘোষ সরকার (৩৫)। প্রায় ১৫ বছর আগে নারায়ণপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিন্টু ঘোষের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই পুত্রসন্তানও রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তন্ত্রসাধনায় মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষ। বুধবার সকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে খুন করার পর বাড়ির ঠাকুরের আসনে তাঁর কাটা মুন্ডু রাখেন বলে অভিযোগ। এরপর সেই মুন্ডু হাতে নিয়েই প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরতে শুরু করেন তিনি। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে ঠিক কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর পিছনে তন্ত্রসাধনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
১৫ বছরের সংসার, দুই সন্তান—সবকিছুর মাঝেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।