দুই জেলার সীমানা পেরিয়ে রমরমিয়ে মাদক কারবার! টার্গেটে কলেজ পড়ুয়ারাও, পুলিশের জালে চক্রের অন্যতম মূল পাণ্ডা
**কাঁকসা:** বীরভূম থেকে বাইকে করে অজয় নদের সেতু পেরিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে আসত মাদক। এরপর গোপন আস্তানায় মজুত করে পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় চলত মাদক সরবরাহ। এমনকী, দুর্গাপুরের একাধিক বেসরকারি কলেজের পড়ুয়ারাও এই মাদক কারবারিদের নিশানায় ছিল বলে অভিযোগ। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আন্তঃজেলা মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল কাঁকসা থানার মলানদিঘী ফাঁড়ির পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের অন্যতম মূল অভিযুক্ত শরিফুদ্দিন শেখ ওরফে ‘ব্যাঙ’কে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই জেলার সীমানাকে কার্যত মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করছিল এই চক্র। বীরভূম থেকে বাইকে করে অজয় নদের সেতু পার করে পশ্চিম বর্ধমানে নিয়ে আসা হতো মাদক। এরপর বিদবিহারের শিবপুর এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় তা মজুত করা হতো। সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হতো মাদক। পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি জেলায় এই কারবারের জাল ছড়িয়ে ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দুর্গাপুরের একাধিক বেসরকারি কলেজের পড়ুয়াদের কাছেও মাদক বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ধৃত শরিফুদ্দিন শেখ ওরফে ‘ব্যাঙ’-এর বাড়ি দুর্গাপুর-ফরিদপুরের কালিনগর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদক সংগ্রহ, গোপন জায়গায় মজুত এবং বিভিন্ন এলাকায় তা সরবরাহের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মলানদিঘী ফাঁড়ির ভিলেজ পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, বিদবিহারের শিবপুর এলাকায় মাদক মজুত করে রেখেছে ওই কারবারি। সেই খবরের ভিত্তিতে মলানদিঘী ফাঁড়ির ইনচার্জ চন্দন মিশ্রের নেতৃত্বে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মাদক-সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় শরিফুদ্দিন শেখকে।
এরপর ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, বীরভূমের কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করা হতো এবং কোন কোন এলাকায় তা সরবরাহ করা হতো, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।
পাশাপাশি এই কারবারের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে এবং কলেজ পড়ুয়াদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পিছনে কোনও বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই গ্রেফতারির পর আন্তঃজেলা মাদক পাচার চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।