লালগোলায় পুলিশের বড়সড় সাফল্য, আন্তঃজেলা বাইক পাচার চক্রের হদিস! উদ্ধার ১৭টি চোরাই মোটরসাইকেল
**লালগোলা:** একটি মোটরসাইকেল চুরির তদন্ত করতে গিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল লালগোলা থানার পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আন্তঃজেলা বাইক পাচার চক্রের দুই অভিযুক্ত। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে মোট **১৭টি চোরাই মোটরসাইকেল**। এই ঘটনায় আরও দুই সহযোগীর নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত **২৭ মে ২০২৬** লালগোলা থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে **৪৪৬/২৬ নম্বর মামলা** রুজু করা হয়। বিএনএস-এর **৩০৩(২) ধারায়** মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের শুরুতেই ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার একাধিক **CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা**। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। এরপর তদন্তে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য।
পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত **১ আগস্ট ২০২৬** রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত **কামাল শেখকে**। আদালতে পেশ করার পর তাকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশি হেফাজতে টানা জিজ্ঞাসাবাদে কামাল শেখের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি। জেরায় সে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তার এক সহযোগী **টিঙ্কু শেখের** নাম জানায়।
এরপর কামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় ফের অভিযান চালায় লালগোলা থানার পুলিশ। সেই অভিযানে গ্রেফতার করা হয় টিঙ্কু শেখকে। দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতরা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা চোরাই মোটরসাইকেলগুলির সন্ধান দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক এলাকায় টানা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে মোট **১৭টি চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার** করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বাইকগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই বাইক চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও দুই সহযোগীর নাম পুলিশের হাতে এসেছে। তাদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
একটি বাইক চুরির তদন্ত করতে গিয়ে একসঙ্গে ১৭টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই চক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনও **আন্তঃজেলা চোরাই বাইক পাচারচক্র** যুক্ত রয়েছে কিনা, অথবা এর পিছনে অন্য কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে লালগোলা থানার পুলিশ।