দেড় বছরে ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন ঋতাভরী, কীভাবে? জানুন নায়িকার ডায়েট ও ফিটনেস রুটিন
টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ফিটনেস ও স্টাইল নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহ কম নয়। তবে কয়েক বছর আগে শারীরিক সমস্যার কারণে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ওষুধের প্রভাবে তাঁর ওজন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। এবার দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য রেখে সেই বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফের আগের ছিপছিপে চেহারায় ফিরেছেন অভিনেত্রী।
### কেন বেড়েছিল ঋতাভরীর ওজন?
ঋতাভরী জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে পরপর অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি গলব্লাডারও বাদ দিতে হয়। প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর ওজন এতটাই কম ছিল যে অপারেশন চলাকালীন তাঁর শরীর কাঁপছিল। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের আগে ওজন বাড়াতে হয় তাঁকে।
পরবর্তীতে আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ এবং শারীরিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর ওজন ক্রমশ বাড়তে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একটা সময় খুব বেশি শরীরচর্চাও করতে পারেননি অভিনেত্রী।
### দেড় বছরে কমেছে ১৮ কেজি
বর্তমানে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। রোগা হওয়ার লক্ষ্যে নয়, নিজেকে আরও ফিট রাখতেই ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেন ঋতাভরী। গত দেড় বছর ধরে ধীরে ধীরে প্রায় ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রীর দাবি, ওজন কমানোর জন্য কোনও ওষুধের সাহায্য নেননি। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনে ডায়েট, শরীরচর্চা এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপন করেই এই পরিবর্তন এনেছেন তিনি।
### কী খান ঋতাভরী?
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ডাবের জল পান করেন অভিনেত্রী। এরপর প্রাতরাশে থাকে একটি গোটা ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো একটি পাউরুটি এবং একটি কলা। খাবারের পর চা বা কফি পান করেন তিনি। গলব্লাডার অস্ত্রোপচারের পর খালি পেটে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করেছেন ঋতাভরী। পাশাপাশি সন্ধে ৬টার পর চা-কফি এড়িয়ে চলেন।
মধ্যাহ্নভোজে কখনও মটন স্টু ও ব্রাউন রাইস, আবার কখনও রোস্টেড চিকেন, কাবলিছোলার ডাল ও দু’টি রুটি থাকে। সঙ্গে অবশ্যই থাকে এক বাটি স্যালাড। গাজর, শসা, টম্যাটো এবং পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি সাধারণ স্যালাডই পছন্দ করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর ডায়েটে প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
বিকেলে মুখরোচক কিছু খেতে ইচ্ছে হলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেন অভিনেত্রী। চাট, চুরমুর, মুড়িমাখা কিংবা কর্ন চাট থাকে তাঁর তালিকায়। রাতের খাবার থাকে তুলনামূলক হালকা, তবে ডিনারে প্রোটিনের বিষয়টি গুরুত্ব দেন তিনি।
### শরীরচর্চাতেও জোর
শুধু খাবারে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাও ঋতাভরীর ওজন কমানোর জার্নির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিম করার পাশাপাশি হাঁটাহাঁটিও করেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা শরীরচর্চার জন্য সময় রাখেন অভিনেত্রী।
### রবিবার থাকে ‘চিট ডে’
তবে সারা সপ্তাহ কঠোর ডায়েট মেনে চললেও রবিবার নিজের পছন্দের খাবার খান ঋতাভরী। সেদিন তাঁর পাতে থাকে মটন বিরিয়ানি। চিকেন বিরিয়ানি পছন্দ না হওয়ায় আধ প্লেট মটন বিরিয়ানিই উপভোগ করেন অভিনেত্রী।
বর্তমানে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি। ঋতাভরীর কথায়, দিনে প্রায় ১৫০০ ক্যালোরির বেশি খাবার খান না।
তবে ওজন কমানোর এই পুরো প্রক্রিয়াই তিনি চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনে করেছেন। তাই তাঁর ডায়েট হুবহু অনুসরণ না করে নিজের শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।