২৭ আগস্ট ২০২৬
বাংলার খবর, বিশ্বের নজরে
তাজা খবর
ধেয়ে আসছে উত্তাল জলরাশি, প্রাণ বাঁচাতে মরণপণ দৌড় শ্রমিকদের! নেপালের আরও এক ভয় ধরানো ভিডিয়ো ভাইরাল তৃণমূল নেতার মাংসের দোকান থেকে মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার! গঙ্গাসাগরে চাঞ্চল্য উত্তাল সমুদ্রে ভাটার টানে তলিয়ে যাচ্ছিলেন পর্যটক, ২০ মিনিটের চেষ্টায় উদ্ধার বকখালিতে মালদা মেডিকেলে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যভবনের তলব পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট বাগনানের পান বাজার থেকে উদ্ধার তিল কাছিম, নদীতে ছেড়ে দিলেন স্থানীয় যুবকেরা
পশ্চিমবঙ্গ

২১ বছর ধরে কাঁটাতারের ওপারে ‘পরাধীন’ ২৪ পরিবার, পুনর্বাসনের দাবিতে সরকারের কাছে আর্জি

লিখেছেন Editor - Bengal News Net ১৩ বার পঠিত ২ মিনিটের পড়া
২১ বছর ধরে কাঁটাতারের ওপারে ‘পরাধীন’ ২৪ পরিবার, পুনর্বাসনের দাবিতে সরকারের কাছে আর্জি

**মালদা:** স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্ণ হলেও ভারতীয় নাগরিক হয়েও কার্যত ‘পরাধীন’ জীবন কাটানোর অভিযোগ উঠল মালদার বাবুনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী তালতলা গ্রামের ২৪টি পরিবারের। ২০০৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সময় এই পরিবারগুলি বেড়ার ওপারে থেকে যায়। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় ২১ বছর। এখনও কাঁটাতারের ওপারেই বসবাস করতে হচ্ছে তাঁদের।


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নির্দিষ্ট সময় মেনে বিএসএফের কাছে পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দিনে একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হলেও রাতের সময়ে অসুস্থতা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি তাঁদের।


তালতলা গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানও বেশ জটিল। একদিকে ভারত, অন্যদিকে বাংলাদেশ। এই এলাকায় পুনর্ভবা নদী দুই দেশের সীমারেখার অন্যতম চিহ্ন হিসেবে কাজ করছে। নদীর ওপারে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার আদাতলা গ্রাম। আর এপারে মালদার বাবুনগোলা থানার তালতলা।


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে সবসময়ই আতঙ্ক কাজ করে। তাঁদের দাবি, কখনও কখনও নদী পেরিয়ে ওপার থেকে দুষ্কৃতীরা এসে গবাদি পশু নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় পরিবারগুলিকে।


এই পরিস্থিতিতে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে তাঁদের পুনর্বাসনের দাবিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ২৪টি পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় নাগরিক হয়েও যদি নিজের দেশের মূল ভূখণ্ডে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা সম্ভব না হয়, তাহলে স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল তাঁরা কীভাবে পাবেন?


এরই মধ্যে তালতলা গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের সেচ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক জুয়েল মুর্মু। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি এবং ৮৮ নম্বর তালতলা বিওপির বিএসএফ আধিকারিকরা।


মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে গ্রামবাসীরা হাতজোড় করে তাঁদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এনে তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন তাঁরা।


জুয়েল মুর্মু জানান, তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন। বিষয়টি রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ২৪টি পরিবারকে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এনে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব কি না, সেই বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।


এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে তালতলার ওই ২৪টি পরিবার। তাঁদের একটাই দাবি—ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এনে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া হোক।

সম্পর্কিত খবর