তারাপীঠে ভোরের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু ৭, একাধিক আহত—চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে
**তারাপীঠ:** সোমবার ভোরে তারাপীঠে বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন একাধিক মানুষ। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড়ে অবস্থিত ‘বিদিশিনি’ নামের একটি বেসরকারি হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলের আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি হোটেলের ভিতরে আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধারে শুরু হয় জোরদার তৎপরতা। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
এরপর হোটেলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দগ্ধ অবস্থায় সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত ও আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং দিনহাটা এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের সদস্যরা তারাপীঠ ও রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন। হাসপাতালে পৌঁছে অনেকেই স্বজনদের খোঁজ শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, **শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে**। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। কীভাবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল, হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনও ত্রুটি ছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় তারাপীঠজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।